সূরা আস্ আস্ সফাত

দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে,

নিচের ▶ বাটনে ক্লিক করুন

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১ : শপথ তাহাদের যাহারা সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২ : ও যাহারা কঠোর পরিচালক

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩ : এবং যাহারা ‘যিকির’ আবৃত্তিতে রত -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪ : নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ্ এক,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫ : যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর প্রভু এবং প্রভু সকল উদয়স্থলের।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬ : আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করিয়াছি,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭ : এবং রক্ষা করিয়াছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হইতে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮ : ফলে উহারা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শ্রবণ করিতে পারে না এবং উহাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক হইতে -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯ : বিতাড়নের জন্য এবং উহাদের জন্য আছে অবিরাম শাস্তি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০ : তবে কেহ হঠাৎ কিছু শুনিয়া ফেলিলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাহার পশ্চাদ্ধাবন করে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১ : উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, উহারা সৃষ্টিতে দৃঢ়তর, না আমি অন্য যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছি তাহা? উহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি আঠাল মৃত্তিকা হইতে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২ : তুমি তো বিস্ময় বোধ করিতেছ, আর উহারা করিতেছে বিদ্রুপ।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩ : এবং যখন উহাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয় উহারা তাহা গ্রহণ করে না।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪ : উহারা কোন নিদর্শন দেখিলে উপহাস করে

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫ : এবং বলে, ‘ইহা তো এক সুস্পষ্ট জাদু ব্যতীত আর কিছুই নয়।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬ : ‘আমরা যখন মরিয়া যাইব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হইব, তখনও কি আমাদেরকে উত্থিত করা হইবে?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭ : ‘এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৮ : বল, ‘হাঁ, এবং তোমরা হইবে লাঞ্ছিত।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৯ : উহা একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ - আর তখনই উহারা প্রত্যক্ষ করিবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২০ : এবং উহারা বলিবে, ‘দুর্ভোগ আমাদের! ইহাই তো কর্মফল দিবস।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২১ : ইহাই ফয়সালার দিন যাহা তোমরা অস্বীকার করিতে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২২ : ফিরিশ্‌তাদেরকে বলা হইবে, ‘একত্র কর জালিম ও উহাদের সহচরগণকে এবং উহাদেরকে যাহাদের ‘ইবাদত করিত তাহারা -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৩ : আল্লাহ্‌র পরিবর্তে এবং উহাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৪ : ‘অতঃপর উহাদেরকে থামাও, কারণ উহাদেরকে প্রশ্ন করা হইবে :

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৫ : ‘তোমাদের কী হইল যে, তোমরা একে অপরের সাহায্য করিতেছ না?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৬ : বস্তুত সেই দিন উহারা আত্মসর্মপণ করিবে

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৭ : এবং উহারা একে অপরের সামআন্ নাসামনি হইয়া জিজ্ঞাআস্ সাবাদ করিবে -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৮ : উহারা বলিবে, ‘তোমরা তো তোমাদের শক্তি লইয়া আমাদের নিকট আসিতে।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-২৯ : তাহারা বলিবে, তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩০ : ‘এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না ; বস্তুত তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩১ : ‘আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিপালকের কথা সত্য হইয়াছে, আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তি আস্বাদন করিতে হইবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩২ : ‘আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করিয়াছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও ছিলাম বিভ্রান্ত।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৩ : উহারা সকলেই সেই দিন শাস্তির শরীক হইবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৪ : অপরাধীদের প্রতি আমি এইরূপই করিয়া থাকি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৫ : উহাদেরকে ‘আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন ইলাহ্‌ নাই’ বলা হইলে উহারা অহংকার করিত

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৬ : এবং বলিত, ‘আমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের ইলাহ্‌গণকে বর্জন করিব?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৭ : বরং সে তো সত্য লইয়া আসিয়াছে এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়াছে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৮ : তোমরা অবশ্যই মর্মন্তুদ শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করিবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৩৯ : এবং তোমরা যাহা করিতে তাহারই প্রতিফল পাইবে -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪০ : তবে তাহারা নয় যাহারা আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ বান্দা।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪১ : তাহাদের জন্য আছে নির্ধারিত রিযিক -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪২ : ফলমূল; আর তাহারা হইবে সম্মানিত,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৩ : সুখদ - কাননে

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৪ : তাহারা মুখামুখি হইয়া আসনে আসীন হইবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৫ : তাহাদেরকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া পরিবেশন করা হইবে বিশুদ্ধ সুরাপূর্ণ পাত্রে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৬ : শুভ্র উজ্জ্বল, যাহা হইবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৭ : উহাতে ক্ষতিকর কিছু থাকিবে না এবং উহাতে তাহারা মাতালও হইবে না,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৮ : তাহাদের সঙ্গে থাকিবে আনতনয়না, আয়তলোচনা হূরীগণ।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৪৯ : তাহারা যেন সুরক্ষিত ডিম্ব।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫০ : তাহারা একে অপরের সামআন্ নাসামনি হইয়া জিজ্ঞাআস্ সাবাদ করিবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫১ : তাহাদের কেহ বলিবে, ‘আমার ছিল এক সঙ্গী;

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫২ : ‘সে বলিত, ‘তুমি কি ইহাতে বিশ্বাসী যে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৩ : ‘আমরা যখন মরিয়া যাইব এবং আমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হইব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেওয়া হইবে?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৪ : আল্লাহ্‌ বলিবেন, ‘তোমরা কি তাহাকে দেখিতে চাও ?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৫ : অতঃপর সে ঝুঁকিয়া দেখিবে এবং উহাকে দেখিতে পাইবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে;

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৬ : বলিবে, আল্লাহ্‌র কসম! তুমি তাে আমাকে প্রায় ধ্বংসই করিয়াছিলে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৭ : ‘আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকিলে আমিও তো হাযিরকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে শামিল হইতাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৮ : ‘আমাদের তো আর মৃত্যু হইবে না

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৫৯ : ‘প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তিও দেওয়া হইবে না!’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬০ : ইহা তো মহাসাফল্য।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬১ : এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬২ : আপ্যায়নের জন্য কি ইহাই শ্রেয় না যাক্কুম বৃক্ষ?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৩ : জালিমদের জন্য আমি ইহা সৃষ্টি করিয়াছি পরীক্ষাস্বরূপ,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৪ : এই বৃক্ষ উদ্‌গত হয় জাহান্নামের তলদেশ হইতে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৫ : ইহার মোচা যেন শয়তানের মাথা

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৬ : অবশ্যই উহারা ইহা হইতে ভক্ষণ করিবে এবং উদর পূর্ণ করিবে ইহা দ্বারা।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৭ : তদুপরি উহাদের জন্য থাকিবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৮ : আর উহাদের গন্তব্য হইবে অবশ্যই প্রজ্বলিত অগ্নির দিকে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৬৯ : উহারা উহাদের পিতৃপুরুষগণকে পাইয়াছিল বিপথগামী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭০ : এবং তাহাদের পদাঙ্ক অনুসরণে ধাবিত হইয়াছিল।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭১ : উহাদের পূর্বেও পূর্ববর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হইয়াছিল,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭২ : এবং আমি উহাদের মধ্যে সতর্ককারী প্রেরণ করিয়াছিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৩ : সুতরাং লক্ষ্য কর যাহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছিল, তাহাদের পরিণাম কী হইয়াছিল!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৪ : তবে আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৫ : সূরা নূহ্ আমাকে আহ্‌বান করিয়াছিল, আর আমি কত উত্তম সাড়াদানকারী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৬ : তাহাকে এবং তাহার পরিবারবর্গকে আমি উদ্ধার করিয়াছিলাম মহাসংকট হইতে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৭ : তাহার বংশধরদেরকেই আমি বিদ্যমান রাখিয়াছি বংশপরম্পরায়,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৮ : আমি ইহা পরবর্তীদের স্মরণে রাখিয়াছি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৭৯ : সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সূরা নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮০ : এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮১ : সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮২ : অন্য সকলকে আমি নিমজ্জিত করিয়াছিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৩ : আর ইব্‌রাহীম তো তাহার অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৪ : স্মরণ কর, সে তাহার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হইয়াছিল বিশুদ্ধচিত্তে;

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৫ : যখন সে তাহার পিতা ও তাহার সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, ‘তোমরা কিসের পূজা করিতেছ?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৬ : ‘তােমরা কি আল্লাহ্‌র পরিবর্তে অলীক ইলাহ্‌গুলিকে চাও ?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৭ : ‘জগতসমূহের প্রতিপালক সম্বন্ধে তোমাদের ধারণা কী?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৮ : অতঃপর সে তারকারাজির দিকে একবার তাকাইল

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৮৯ : এবং বলিল, ‘আমি অসুস্থ।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯০ : অতঃপর উহারা তাহাকে পশ্চাতে রাখিয়া চলিয়া গেল।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯১ : পরে সে সন্তর্পণে উহাদের দেবতাগুলির নিকট গেল এবং বলিল, ‘তোমরা খাদ্য গ্রহণ করিতেছ না কেন?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯২ : ‘তোমাদের কী হইয়াছে যে, তোমরা কথা বল না?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৩ : অতঃপর সে উহাদের উপর সবলে আঘাত হানিল।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৪ : তখন ঐ লোকগুলি তাহার দিকে ছুটিয়া আসিল।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৫ : সে বলিল, ‘তোমরা নিজেরা যাহাদেরকে খোদাই করিয়া নির্মাণ কর তোমরা কি তাহাদেরই পূজা কর?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৬ : ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌ই সৃষ্টি করিয়াছেন তোমাদেরকে এবং তোমরা যাহা তৈরি কর তাহাও।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৭ : উহারা বলিল, ‘ইহার জন্য এক ইমারত নির্মাণ কর, অতঃপর ইহাকে জ্বলন্ত অগ্নিতে নিক্ষেপ কর।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৮ : উহারা তাহার বিরুদ্ধে চক্রান্তের সংকল্প করিয়াছিল; কিন্তু আমি উহাদেরকে অতিশয় হেয় করিয়া দিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-৯৯ : সে বলিল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের দিকে চলিলাম, তিনি আমাকে অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত করিবেন;

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০০ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান কর।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০১ : অতঃপর আমি তাহাকে এক স্থিরবুদ্ধি পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০২ : অতঃপর সে যখন তাহার পিতার সঙ্গে কাজ করিবার মত বয়সে উপনীত হইল তখন ইবরাহিম বলিল, ‘বৎস! আমি স্বপ্নের দেখি যে, তোমাকে আমি যবেহ্ করিতেছি, এখন তোমার অভিমত কি বল?’ সে বলিল, ‘হে আমার পিতা! আপনি যাহা আদিষ্ট হইয়াছেন তাহাই করুন। আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাইবেন।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৩ : যখন তাহারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করিল এবং ইব্‌রাহীম তাহার পুত্রকে কাত করিয়া শায়িত করিল,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৪ : তখন আমি তাহাকে আহ্‌বান করিয়া বলিলাম, ‘হে ইব্‌রাহীম!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৫ : ‘তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন করিলে!’ - এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৬ : নিশ্চয়ই ইহা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৭ : আমি তাহাকে মুক্ত করিলাম এক কুরবানীর বিনিময়ে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৮ : আমি ইহা পরবর্তীদের স্মরণে রাখিয়াছি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১০৯ : ইব্‌রাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হউক!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১০ : এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১১ : নিশ্চয়ই সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম;

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১২ : আমি তাহাকে সুসংবাদ দিয়াছিলাম ইস্‌হাকের, সে ছিল এক নবী, সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৩ : আমি তাহাকে বরকত দান করিয়াছিলাম এবং ইস্‌হাককেও; তাহাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৪ : আমি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম মূসা ও হারূনের প্রতি,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৫ : এবং তাহাদেরকে এবং তাহাদের সম্প্রদায়কে আমি উদ্ধার করিয়াছিলাম মহাসংকট হইতে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৬ : আমি সাহায্য করিয়াছিলাম তাহাদেরকে ফলে তাহারাই হইয়াছিল বিজয়ী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৭ : আমি উভয়কে দিয়াছিলাম বিশদ কিতাব।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৮ : এবং তাহাদেরকে আমি পরিচালিত করিয়াছিলাম সরল পথে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১১৯ : আমি তাহাদের উভয়কে পরবর্তীদের স্মরণে রাখিয়াছি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২০ : মূসা ও হারূনের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২১ : এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২২ : তাহারা উভয়েই ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৩ : ইল্ইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৪ : স্মরণ কর, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৫ : ‘তোমরা কি বা‘আলকে ডাকিবে এবং পরিত্যাগ করিবে শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৬ : আল্লাহ্‌কে, যিনি প্রতিপালক তোমাদের - প্রতিপালক তোমাদের প্রাক্তন পূর্বপুরুষদের ?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৭ : কিন্তু উহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল, কাজেই উহাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হইবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৮ : তবে আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১২৯ : আমি ইহা পরবর্তীদের স্মরণে রাখিয়াছি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩০ : ইল্ইয়াসিনের উপর শান্তি বর্ষিত হউক।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩১ : এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩২ : সে তো ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৩ : লূতও ছিল রাসূলদের একজন।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৪ : আমি তাহাকে ও তাহার পরিবারের সকলকে উদ্ধার করিয়াছিলাম -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৫ : এক বৃদ্ধা ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৬ : অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করিয়াছিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৭ : তোমরা তো উহাদের ধ্বংসাবশেষগুলি অতিক্রম করিয়া থাক সকালে ও

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৮ : সন্ধ্যায়। তবুও কি তোমরা অনুধাবন করিবে না?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৩৯ : ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪০ : স্মরণ কর, যখন সে পলায়ন করিয়া বোঝাই নৌযানে পৌঁছিল,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪১ : অতঃপর সে লটারীতে যোগদান করিল এবং পরাভূত হইল।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪২ : পরে এক বৃহদাকার মৎস্য তাহাকে গিলিয়া ফেলিল, তখন সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগিল।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৩ : সে যদি আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করিত,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৪ : তাহা হইলে তাহাকে উত্থান দিবস পর্যন্ত থাকিতে হইত উহার উদরে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৫ : অতঃপর ইউনুসকে আমি নিক্ষেপ করিলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং সে ছিল রুগ্ন।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৬ : পরে আমি তাহার উপর এক লাউ গাছ উদ্‌গত করিলাম.

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৭ : তাহাকে আমি এক লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করিয়াছিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৮ : এবং তাহারা ঈমান আনিয়াছিল; ফলে আমি তাহাদেরকে কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করিতে দিলাম।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৪৯ : এখন উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার প্রতিপালকের জন্যই কি রহিয়াছে কন্যা সন্তান এবং উহাদের জন্য পুত্র সন্তান?’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫০ : অথবা আমি কি ফিরিশ্‌তাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করিয়াছিলাম, আর উহারা প্রত্যক্ষ করিতেছিল?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫১ : দেখ উহারা তো মনগড়া কথা বলে যে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫২ : ‘আল্লাহ্‌ সন্তান জন্ম দিয়াছেন!’ উহারা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৩ : তিনি কি পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান পসন্দ করিতেন?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৪ : তোমাদের কী হইয়াছে, তোমরা কিরূপ বিচার কর?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৫ : তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৬ : তোমাদের কী সুস্পষ্ট দলীল - প্রমাণ আছে?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৭ : তোমরা সত্যবাদী হইলে তোমাদের কিতাব উপস্থিত কর।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৮ : উহারা আল্লাহ্ ও আল জিন জাতির মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করিয়াছে, অথচ আল জিনেরা জানে তাহাদেরকেও নিশ্চয়ই উপস্থিত করা হইবে শাস্তির জন্য।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৫৯ : উহারা যাহা বলে তাহা হইতে আল্লাহ্‌ পবিত্র, মহান -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬০ : আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ বান্দাগণ ব্যতিত,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬১ : তোমরা এবং তোমরা যাহাদের ‘ইবাদত কর উহারা -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬২ : তোমরা কাহাকেও আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে বিভ্রান্ত করিতে পারিবে না -

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৩ : কেবল প্রজ্বলিত অগ্নিতে প্রবেশকারীকে ব্যতীত।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৪ : আমাদের প্রত্যেকের জন্যই নির্ধারিত স্থান রহিয়াছে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৫ : আমরা তো সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৬ : ‘এবং আমরা অবশ্যই তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণাকারী।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৭ : উহারাই তো বলিয়া আসিয়াছে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৮ : ‘পূর্ববর্তীদের কিতাবের মত যদি আমাদের কোন কিতাব থাকিত,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৬৯ : ‘আমরা অবশ্যই আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ বান্দা হইতাম।’

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭০ : কিন্তু উহারা কুরআন প্রত্যাখ্যান করিল এবং শীঘ্রই উহারা জানিতে পারিবে;

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭১ : আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হইয়াছে যে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭২ : অবশ্যই তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে,

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৩ : এবং আমার বাহিনীই হইবে বিজয়ী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৪ : অতএব কিছু কালের জন্য তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৫ : তুমি উহাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, শীঘ্রই উহারা প্রত্যক্ষ করিবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৬ : উহারা কি তবে আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করিতে চায়?

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৭ : তাহাদের আঙিনায় যখন শাস্তি নামিয়া আসিবে তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হইবে কত মন্দ!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৮ : অতএব কিছু কালের জন্য তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৭৯ : তুমি উহাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, শীঘ্রই উহারা প্রত্যক্ষ করিবে।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৮০ : উহারা যাহা আরোপ করে তাহা হইতে পবিত্র ও মহান তোমার প্রতিপালক, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী।

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৮১ : শান্তি বর্ষিত হউক রাসূলদের প্রতি!

সূরা আস্ আস্ সফাত

৩৭-১৮২ : আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্‌রই প্রাপ্য।